মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো
মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো
সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদবী রহ: তার মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো বইয়ে জাহেলি যুগের অবসান ঘটিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তৎকালীন আরব সমাজের বর্নান দিতে গিয়ে বলেন; এখন আর মানুষ মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। পুরুষেরা নারীর জিম্মাদার ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত, নারীরা সৎ বিশ্বস্ত ও আমানতদার। তাদের অধিকার রক্ষায় জিম্মাদার পুরুষ এবং পুরুষের অধিকার রক্ষায় তৎপর নারী।"
ইসলাম পরস্পরকে পরস্পরের প্রতি যে দায়িত্ব দিয়েছে আমরা কি তা অনুসরণ করছি? বর্তমান সমাজের অন্যতম ব্যাধির নাম হচ্ছে ডিভোর্স 'বা তালাক! প্রাত্যহিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে উভয়ে ইসলামকে অনুসরণ করলে কি সমাজে ডিভোর্স নামক ব্যাধি কি থাকার কথা?
প্রসঙ্গক্রমে এখানে আরো কিছু কথা বলা দরকার।নারীর আর্থিক নিরাপত্তা দেয়ার মতো কেউ না থাকলে, সে উপার্জনের জন্য যেকোনো হালাল কাজ করতেই পারে। কিন্তু পশ্চিমা ধারানা নিয়ে গজিয়ে ওঠা মিডিয়া ও লেখকদ্বয় যেভাবে মোটিভেশন দেয়, তাতে সকল নারীকে নিজের পায়ে দাড়াতেই হবে (নিজের পায়ে দাঁড়ানো বলতে তারা অর্থ উপার্জনকেই বোঝায়) তা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও এক্ষেত্রে মিডিয়া এবং লেখকদ্বয় অনেকটাই সফল, কিন্তু মানুষ ব্যর্থ! বর্তমানে অনেক নারী-পুরুষই মনে করছে, আর্থিক সচ্ছলতার জন্য পুরুষের সাথে নারীকেও উপার্জন করতেই হবে, অথচ সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর আর্থিক দায়িত্ব ইসলাম পুরুষকে দিয়েছে । এমনকি এ বিষয়ে মানুষ তার ব্যর্থতাকে অনুধাবন করতেও ব্যর্থ! ফলে ইসলামের বাণী (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-২৩৩। সূরা আত-তালাক, আয়াত-৬। সুনান আবূ দাউদ, হাদিস নং-২১৪২।) থাকা সত্ত্বেও নারীর বাহিরে কাজের বিরুদ্ধ বক্তব্যকে নারীবাদী আক্রমনের স্বীকার হতে হয়! এ জন্য অনেকেই এসব নিয়ে বলার শাহসও করে না। অফিসে উপরস্থ কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারে নারীবাদের সমস্যা হয় না, কিন্তু ঘরের মানুষের দুর্ব্যবহারে সমস্যা। না, কোথাও কারো প্রতি দুর্ব্যবহার সমর্থন করছি না, শুধুমাত্র চিন্তাগত বৈষম্য তুলে ধরতেই কথাটা বলা।
নারীর ঘরের কাজ তথা অবদানকে অবহেলা করা থেকেও বেরিয়ে আসা দরকার। অনেকে তো কথায় কথায় স্ত্রীকে আর্থিক ভাবে খোঁটাও দিয়ে থাকে। যেমন, "আমার খেয়ে আমার পড়ে.......", স্ত্রীকে এমন ভাবে খাওয়া পড়ার খোঁটা দেয়াটা কোনো মতেই গ্রহনযোগ্য নয়। তাছাড়া মুসলিম পুরুষ কখনোই এমনটা বলতে পারে না। কারণ, সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর আর্থিক দায়িত্ব ইসলাম পুরুষকেই দিয়েছে, ইতিমধ্যেই তার রেফানেন্স দিয়েছি। শুধু ইসলাম নয়, রাষ্ট্রও স্ত্রীর আর্থিক দ্বায়িত্ব স্বামীকে দেয়া হয়েছে (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১, ধারা-৯)।
স্ত্রী নেতিবাচক কিছু করলে সে বিষয়ে বুঝিয়ে বলা যেতে পারে( ইসলাম মেনে চলা নারী কিছুতেই নেতিবাচক কাজ করবে না), সীমা অতিক্রম করলে নিয়ম অনুযায়ী তালাকের বিধান রয়েছে, কিন্তু আর্থিক খোঁটা কোনো মতেই সমর্থনযোগ্য নয়।
ইসলাম কেবলমাত্র ইবাদতের কথাই বলে নি, জীবনকে কিভাবে পরিচলনা করতে হবে তাও বলেছে। কিন্তু ইবাদত নিয়ে যেভাবে আলোচনা ও প্রচারনা হয়, জীবন ব্যবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে সেভাবে শক্তিশালী আলোচনা বা প্রচারনা হয় না। কুরআন পড়লেই সওয়াব তাই অধিকাংশ মানুষের কুরআন পাঠ 'কুরআন খতমে' সীমাবদ্ধ, বুঝে কুরআন পড়ার চেষ্ঠা করা মানুষের সংখ্যা নগণ্য। এ কারণে ইবাদত হলেও প্রাত্যহিক জীবনে ইসলামের অনেক বিষয় হতেই মানুষ দূরে সরে গিয়ে পশ্চিমা দর্শনকে গ্রহন করেছে। ফলে সমস্যাও মানুষে এবং সমাজের ঘাড়ে চেপে বসেছে। এখান থেকে উত্তরণে কুরআনের দেয়া জীবন বিধান আলোচনার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।
Post a Comment