আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)
আবু বকর আস-সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একবার আলা ইবনুল হাযরামি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বাহরাইন পাঠালেন। তো মরুভূমিতে সফর করতে করতে তাঁরা তীব্র পানি পিপাসায় পড়েন। তাঁদের চোখেমুখে মৃত্যুর ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি এক জায়গায় নেমে দুই রাকাআত সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে দুয়া করেন―ইয়া হালিম (অতি সহনশীল), ইয়া আলিম (সর্বজ্ঞাত), ইয়া আলিইয়ু (সর্বসমুন্নত), ইয়া আযিম (সর্বসম্মানিত),আপনি আমাদের পিপাসা নিবারণ করে দিন। অমনি পাখির ডানার মতো একখণ্ড মেঘ দেখা দিলো, ঝরঝর করে মুষলধারে বৃষ্টি নামতে শুরু করল। তাঁরা সব পাত্র-পেয়ালা ভরে জন্তু-জানোয়ারগুলোকেও তৃপ্ত করালেন। তিনি বলেন, ‘তারপর আমরা সফর করতে করতে “দারাইন” গিয়ে পৌঁছলাম। আমাদের ও মুরতাদ বাহিনীর মাঝে একটি সমুদ্র ছিল।’
.
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘আমরা একটি নদীর তীরে উপস্থিত হলাম। আমাদের আগে কেউ এই নদী পার হয়নি আর আমাদের পরও কেউ পেরোবে না। কারণ, সেখানে আমরা কোনো নৌকাই দেখতে পাইনি। নৌকাগুলো তো মুরতাদরা জ্বালিয়ে দিয়েছিল।’ তারপর তিনি দুই রাকাআত সালাত পড়ে দুয়া করলেন―ইয়া হালিম (অতি সহনশীল), ইয়া আলিম (সর্বজ্ঞাত), ইয়া আলিইয়ু (সর্বসমুন্নত), ইয়া আযিম (সর্বসম্মানিত),আপনি আমাদের নদী পার করে দিন। এরপর তিনি ঘোড়ার লাগাম ধরে বললেন―প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা নদী পেরিয়ে যাও।’
.
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, ‘তারপর আমরা পানির ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে নদী পার হয়ে গেলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের কারও পায়ে একটুও পানি লাগেনি, কারও মোজা সামান্যও ভেজেনি, কারও ঘোড়ার খুরে একটু পানিও স্পর্শ করেনি, অথচ সৈন্যসংখ্যা ছিল চারহাজার।’
.
[আল-আকিদাতু ওয়া আসারুহা ফি বিনায়িল জিল; শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ: ৯/১৬১-১৬২]
Courtesy: ilmweb
Post a Comment