মাদ্রাসার ছাত্রটি এমন কেন!

মাদ্রাসার ছাত্রটি এমন কেন!

 


একজন হুজুরের আলোচনা শুনছিলাম। আলোচনার শুরুতে তিনি তার শিক্ষা জীবন কীভাবে কোথায় এবং কোন কোন মাদ্রাসা ও স্কুলে অতিবাহিত করেছেন সেগুলোই বলছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বললেন, "আমি আলেম হওয়ার আগ পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি শুধু পাশ করার জন্য, ভালো রেজাল্ট করার জন্য ও বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য। কিন্তু তখনও আমি হেদায়েত প্রাপ্ত হয়নি। আল্লাহ তায়ালা তখনও আমাকে হিদায়েত দান করেননি। আল্লাহ তায়ালা আমাকে হিদায়েত দান করেছেন আলেম হওয়ার পরে এবং তখন থেকেই আমি দ্বীনের একজন দ্বাঈ হিসেবে কাজ করে আসছি। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা এখনও আমার মধ্যে হিদায়েতের বুঝটি তেমনি রেখেছেন যেমন শুরুতেও ছিল।"

হুজুরের আলোচনার সামান্য অংশটুকু থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাকেও দারুন একটি খোরাক আহরণ করার তৌফিক দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
নিম্নরূপঃ
আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনেক মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদেরকে দেখি। যাদের সবার চলাচলের রাস্তা ও দ্বীন মানার ধরন এক নয়। কিছু ছাত্র আছে যাদের তুলনা হয় না। মাশাল্লাহ, তারা তাদের রবের বিধান মানতে জীবনকে করে দিয়েছে উৎসর্গ। এই ছাত্র গুলো যেন দ্বীনের সৌন্দর্যেরই প্রতিচ্ছবি। আবার কিছু ছাত্র এমন আছে যাদের দেখে মনে হয় দ্বীনের কোনো প্রভাবই তাদের মধ্যে পরেনি। যদিও তারা দ্বীনি শিক্ষাই অর্জন করছে।
বর্তমানে এমন অনেক হাফেজ, আলেমও দেখা যায়। যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা কোরআন হিফয করার বা আলেম হওয়ার সৌভাগ্য তো দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা এখন সাংসারিক জীবনে এসে পথভ্রষ্টই প্রায়। যাদের মধ্যে এখন দ্বীনের আর সামান্যও ছিটেফোটা অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ যখনই তাদের পরিক্ষা নিলেন ঠিক তখনই তারা অনুত্তীর্ণ হয়ে গেল। তাদের দেখলে শুধু করুনা ভরে এই আয়াতটির কথাই মনে পড়ে-
يُضِلُّ اللَّهُ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ
‘‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হেদায়াত দান করেন’’। (সূরা মুদ্দাছ্ছির: ৩১)
আবার আমরা অনেকে এমনো আছি যারা মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রদেরকে বেদ্বীনি কাজকর্মে লিপ্ত হতে দেখলে পুরো মাদ্রাসার বদনাম করে বেড়াই। অনেকে তো ছাত্রদের উস্তাদদেরকেও খোচা মেরে কথা বলতে ছাড় দেই না। সত্যি বলতে এরকমটা করা আমাদের মোটেই উচিৎ নয়। আমাদেরকে বুঝতে হবে, যারা দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে বা হয়েছে তারা যদি বেদ্বীনি কর্মকাণ্ড করে বেড়ায় তবে তারা এখনও হিদায়েত প্রাপ্ত হয়নি এবং পুরো দ্বীন তাদের মাঝে এখনও প্রবেশ করেনি। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে এখনো হিদায়েতের পথে আসার তৌফিক দান করেননি। আল্লাহ তায়ালা যাদেরকে পছন্দ করেন এবং যারা আল্লাহর প্রিয় বান্দা শুধু তারাই হিদায়েত পেয়ে থাকেন। আর সব কিছুই হয় আমার রবের ইচ্ছা অনুযায়ী, তার হিকমত অনুযায়ী। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কালামে মাজিদে এরশাদ করেন-
وَلَوْ شِئْنَا لَآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا
‘‘আমি যদি ইচ্ছা করতাম তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তিকেই সৎপথে আনয়ন করতাম’’। (সূরা সাজদাহ: ১৩)
তাই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া কোনো ছাত্রকে বেদ্বীনি কর্মকান্ডে লিপ্ত দেখলে বুঝে নিবেন তারা এখনো সরল সঠিক পথের যাত্রী হতে পারেনি আর এটা শুধু ঐ ছাত্রের ব্যর্থতা পুরো মাদ্রাসার নয়। তার ভুল গুলো পারলে মার্জিত ভাষায় শুধরে দিবেন আর না পারলে মন থেকে শুধু তার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাকে সরল পথের যাত্রী বানিয়ে দেয়।
-মাদ্রাসার ছাত্রটি এমন কেন!
অবশ্যই পড়ুন:

Contact Us

Name

Email *

Message *

Facebook

random/hot-posts